কান মে ভগবান হে, অর্থাৎ প্রত্যেক কনায় কনায় ঈশ্বরের অবস্থান। বৈজ্ঞানিকরা তো একে গড পাটিকেল বলে থাকে। শূন্যস্থান বা যা মানুষের কল্পনার বাইরে সেগুলোকে ডার্ক ম্যাটার বলে থাকে। নতুনভাবে কিছু সৃষ্টি করা যায় না শুধুমাত্র একরূপ থেকে অন্যরূপে পরিবর্তন করা যায়।
তাই চলুন আমরা পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ কে একটি নতুন রূপে পরিবর্তন করার দিকে এগিয়ে এসে এবং উপযুক্ত ক্যান্ডিটেডকে ভোটের মাধ্যমে আমাদের দিশা নির্ধারণ করতে সুবিধা করে দিই।
কর্পোরেটর রাজনীতিকে দূরে রেখে মানুষের জন্য রাজনীতি আসল রাজনীতি। ভারতবর্ষে সরকারি হিসাবে হোয়াইট মানি যাকে বলা যায় সেই হিসাবে বিজেপি অনুদানের দিকে সর্বপ্রথম, দ্বিতীয় স্থানে তৃণমূল কংগ্রেস, তৃতীয় স্থানে কংগ্রেস। বিজেপি একটি সর্বভারতীয় পার্টি তাই প্রথম হওয়ার চান্স থাকতে পারে এবং হয়েছেও কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস যা কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গে পরিসরের মধ্যেই তারা কিভাবে হোয়াইট মানি অনুদানে ভারতের দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। বলতেই পারেন অনুদান তো করতেই পারে। এটা শুধুমাত্র হোয়াইট মানির হিসাব যেগুলো কাঠমানি বা চাকরি বিক্রির টাকা হইয়ে ৩০-৭০ এর হিসাব তা ধরলে তো এক নম্বর ও লজ্জা পেয়ে যাবে।
এইগুলো আমাদের আজকে আলোচনার বিষয় না এর জন্য আয়কর বিভাগ ও সরকার রয়েছে।
এই সকল পার্টি চলে অনুদানের ভিত্তিতে আর এই অনুদান গুলো আসে কোন সমাজসেবী অথবা বিজনেসম্যান দের কাছ থেকে এখানে বুঝতে পারছেন সমাজসেবী বলতে কাদের বলা হচ্ছে। বর্তমান নেতাদের পরেই যাদের স্থান তারাই হচ্ছে এই সমাজ সেবীরা যাদের কাট মানির সমাজ সেবায় সমাজ অতিষ্ঠ।
একজন এমএলএ সাধারণ জনগণের কাছ থেকে ভোট নেন, টাকা নেন কর্পোরেট অথবা সমাজ সেবকের কাছ থেকে, তাহলে তারা কি কাজ করবেন আপনাদের জন্য ?? এই ছোট প্রশ্নটা রইল আপনাদের কাছে। আর তারা টিকিটটা পান সেখানেও টাকা পয়সার ব্যাপার থাকতে পারে, সেই দলের গুলোর সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ নেই শুধুমাত্র খবরের চ্যানেলে দেখা যায় টাকার বিনিময় টিকিট পাওয়া টাকার বিনিময় বিধায়ক কেনাবেচা।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে এক শ্রেণি আরো বড়লোক হয় আর যারা প্রকৃত ভোটদান করে তারা চিরকাল একই অবস্থায় থাকে। পশ্চিমবঙ্গের অনেক অধিবাসী বাইরে রাজ্যে কাজে গেছে ভোট উপলক্ষে সরকারের কাছে অনুরোধ স্পেশাল ট্রেন এর ব্যবস্থা করা হোক। সব স্লিপার হলেও কোন অসুবিধা নেই। হাসি না থাকলেও চলবে তারা হাসিমুখে পশ্চিমবঙ্গে এসে ভোট দান করবে দুদিন বাড়ির আত্মীয়দের সাথে কাটিয়ে আবার অন্য রাজ্যে তার কাজের স্থানে চলে যাবে। এই ব্যবস্থাটুকু কি করতে পারেনা রাজ্য সরকার। তারা তাদের কাজের ব্যবস্থা নিজেরাই করে নিয়েছেন।
সরকারের প্রধান কাজ কর্মসংস্থান বাড়ানো ও তার মাধ্যমে দেশ ও সমাজকে আরো উন্নতি করা।। কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য সকলকে উচ্চশিক্ষিত হতে হবে তার কোন মানে নেই। যে যেমন শিক্ষিত যেমন জ্ঞান আছে তাকে সেই রকম কাজে লাগানো বা তাকে সেই কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়া সরকারের প্রধান কাজ। যা এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ সবচাইতে মজার কথা সরকারি যে চাকরি গুলো থাকে সেই চাকরিগুলো পর্যন্ত বিক্রি করে দেয় তো বেসরকারি কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা তো দূরের কথা।
এই দেশের মানুষের টাকা ইনকাম করার জন্য ভারতীয় মুদ্রা প্রয়োজন আবার ভারত সরকারকে ভালো মতো চালানোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রাও প্রয়োজন। যা প্রধানত ডলার। ভারতে প্রচলিত যত মুদ্রা আছে তার থেকে এই দেশের ঋণের সংখ্যা বেশি অর্থাৎ ধরুন সরকার ১০০ টাকার ১০ টি নোট তৈরি করেছেন বা ছাপিয়েছে কিন্তু বাজারে দেনা রয়েছে আড়াই হাজার টাকার এই দেড় হাজার টাকার এক্সট্রা দেনা বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে যা কখনোই পরিশোধযোগ্য নয়। তা কেবলই পরিশোধযোগ্য হবে যদি বেশি পরিমাণে উৎপাদন ও বৈদেশিক মুদ্রা এদেশে আসে।
প্রথমেই বলা হয়েছিল নতুন করে কিছু সৃষ্টি করা যায় না কেবলমাত্র রূপ পরিবর্তন করা যায় তাই এই দেশে উৎপাদনের সাথে সাথে বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে ডলার ভারতে আসলেই এই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি আরো দ্রুত হবে। ভারত সরকার বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে অর্থাৎ ধরে নিন এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরতে যাচ্ছেন তার জন্য কোন ভিসা লাগবে না ভিসা ফ্রি যেতে পারেন। যেমন এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে যাওয়া যায় ঠিক তেমনি আপনি এক দেশ থেকে অন্য দেশে আপনি ইমপোর্ট এক্সপোর্ট বিজনেস করতে পারেন যার জন্য অতিরিক্ত কোন শুল্ক দিতে হবে না।
এই পশ্চিমবঙ্গে কুটির শিল্প বস্ত্র বা তাত শিল্প সাথে চামড়া চা পাট ও অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ফল সবজি বিদেশে রপ্তানি করে খুব সহজেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যেতে পারে। এর জন্য খুব একটা জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না শুধুমাত্র কিছু টেকনিক্যাল ট্রাম ও ব্যাংকের বিশেষ ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় যেমন বিজনেস এর জন্য কারেন্ট একাউন্ট ঠিক তেমন এক্সপোর্ট বিজনেস এর জন্য আলাদা ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় ও তার কিছু নিয়ম থাকে।
প্রত্যেক জেলায় জেলায় যে বস্তু উৎপাদন বা পরিষেবা প্রদানে প্রসিদ্ধ বা তার পোটেনশিয়াল আছে সেখানে সেই বস্তু বা পরিষেবা গুলো মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যেতে পারে সেটা কোন কালচারাল প্রোগ্রামও হতে পারে। এখানকার শিল্পীদের বিদেশে প্রোগ্রাম করার জন্য ব্যবস্থা করে দিতে হবে অনেক বাঙালি আছে বিদেশে থাকেন তারা বাংলার গান শুনতে চান বাংলার কালচার কে অনুভব করতে চান তাদের জন্য সেখানে বিভিন্ন ধরনের পুজোর সময় এখান থেকে পুজোর মূর্তি পুজোর সরঞ্জাম সহ পুজোতে ব্রাহ্মণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য গায়কায়িকা কালচারাল প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে আরো বেশি বেশি করে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। যারা বিদেশে আছে তারাও তাদের নারীর শিকড় কে অনুভব করতে পারবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রী যিনি হবেন তার দায়িত্ব হবে রাজ্যের সাথে সাথে বিদেশেও বাঙালিয়ানাকে আরো সুদৃঢ় করা শুধুমাত্র ফেসবুক ইনস্টিটিউটে ভিডিও নয় বিদেশের মাটিতে গিয়ে দেশের কালচার কে আরো প্রমোট করা।
বেশিরভাগ মন্ত্রী ছেলে মেয়ে সমেত আত্মীয়-স্বজন এর ছেলেমেয়েরাও বিদেশে পড়াশোনা করে সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতির জন্য আর পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা কথা না বলাই ভালো। তারা বিদেশে যায় দেখে আসে এত শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো মন্ত্রী হয়েও শিক্ষামন্ত্রী কেন এই রাজ্যের শিক্ষার হাল এত খারাপ তার আফসোস হয় না। একটা ভালো পদক্ষেপ তো দূরের কথা তিনি তো বলেই ফেলেছেন তার দলের লোকেদের চাকরি হবে কিভাবে হবে কখন হবে বলবো না কিন্তু হবে তার কাছ থেকে আর কি আশা করা যায়।
তাই আপনার ভোটটা খুবই মূল্যবান, কোন রাজনৈতিক দলের অপপ্রচারে সময় নষ্ট না করে চলুন আমরা পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসাবে আগামী দিনে আমরা কিভাবে অগ্রসর হতে পারি তার একটি দিক নির্ধারণ বা দিশা ঠিক করার বা আলোচনা করার জন্য।